Jun 11, 2012

১২৫

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
 
"ঈমানের ৭০-এর কিছু বেশি অথবা ৬০-এর কিছু বেশি শাখা-প্রশাখা আছে। তন্মধ্যে উত্তম হচ্ছে "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলা, আর নিম্নতম হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।" [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সলিহীন : ১২৫

১২৭

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
 
"আমি এক ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছি, যে জান্নাতে এ জন্য চলাফেরা করছে যে, সে একটা পথের উপর থেকে একটা গাছ কেটে ফেলে দিয়েছিলো। এটা মুসলিমদেরকে কষ্ট দিচ্ছিলো।" [মুসলিম]

* রিয়াদুস সলিহীন : ১২৭

Jun 9, 2012

৪৮৫

হযরত কা'ব ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
 
"সম্পদ ও আভিজাত্যের প্রতি মানুষের লোভ তার দ্বীনের যে মারত্মক ক্ষতি করে, বকরীর পালে ছেড়ে দেয়া দু'টি ক্ষুধার্ত নেকড়েও বকরীর পালের ততো ক্ষতি করতে পারেনা।" [তিরমিযি]

* রিয়াদুস সলিহীন : ৪৮৫

৪৯১

হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তার পরিবার কোনদিন একনাগাড়ে দু'দিন পেটপুরে যবের রুটিও খেতে পায়নি।" [বুখারী ও মুসলিম]

অপর এক বর্ণনায় আছেঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদীনা আসার পর থেকে তার ইন্তিকাল পর্যন্ত তার পরিবারের লোকজন একনাগাড়ে তিনদিন পেট ভরে গমের রুটিও খেতে পায়নি।


* রিয়াদুস সলিহীন : ৪৯১

৮৪১

হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ
 
"তোমাদের কেউ তার পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে সেটা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে। তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা এবং (বন্ধুদের) কাছে তা বিবৃত করা উচিত। অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ তখন সে যাকে ভালোবাসে তাকে ছাড়া আর কাউকে সেটা না বলা উচিত। আর সে যদি অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে তাহলে এটা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। তার ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং কারো কাছে তা বর্ণনা না করা উচিত। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। " [বুখারী ও মুসলিম]


* রিয়াদুস সলিহীন : ৮৪১

Jun 6, 2012

১৮১

হযরত আবু রুকাইয়া তামীম ইবন আওস আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
 
"দ্বীন (ইসলামের মূল কথা) হচ্ছে জনগণের কল্যাণ কামনা করা। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কার জন্য? তিনি বললেনঃ মহান আল্লাহ তাঁর কিতাব, তার রাসূল, মুসলমানদের, ইমাম (নেতা) এবং সমস্ত মুসলমানদের জন্য।" [মুসলিম]


* রিয়াদুস সলিহীন : ১৮১

Jun 4, 2012

২৩৩

হযরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
 
"এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে না তার উপর যুলুম করতে পারে আর না তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করতে পারে। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের কোন কষ্ট বা অসুবিধা দূর করে দেয়, এর বিনিময়ে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার কষ্ট ও বিপদ থেকে অংশবিশেষ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।" [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সালেহীন [১ম খন্ড] : ২৩৩

৩৪০

হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
 
"আল্লাহ তা'আলা পিতামাতাকে কষ্ট দেয়া, কৃপণতা করা, অবৈধভাবে অন্যের মাল দাবী করা এবং কন্যা সন্তানের জীবন্ত প্রোথিত করা তোমাদের প্রতি হারাম করে দিয়েছেন। নিরর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, অধিক চাওয়া এবং সম্পদ বিনষ্ট করা তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেছেন।" [বুখারী ও মুসলিম]


* রিয়াদুস সালেহীন [১ম খন্ড] : ৩৪০

Jun 3, 2012

৩০৮

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
 
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের ইজ্জত করে আদর-আপ্যায়ন করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, অথবা নীরব থাকে।"  [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সালেহীন - ৩০৮

২৭৩

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
"আমার কাছ থেকে মেয়েদের সাথে সদ্ব্যবহার করার শিক্ষা গ্রহণ কর। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে ওপরের হাড়টা সর্বাপেক্ষা বাঁকা। অতএব তুমি যদি সোজা করতে যাও, তবে ভেঙ্গে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি ফেলে রাখ তবে বাঁকা হতেই থাকবে। অতএব, নারীদের সাথে ভালো ব্যবহার কর। "  [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সালেহীন - ২৭৩

Jun 2, 2012

২২৯

হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন কাজ (ইবাদত) করার ঐকান্তিক আগ্রহ থাকা সত্বেও তা পরিত্যাগ করতেন এই ভয়ে যে, লোকেরা (তার দেখাদেখি) তা নিয়মিত করতে থাকবে। ফলে এটা তাদের ওপর ফরয করে দেয়া হবে।" [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সালেহীন - ২২৯

২২৬

হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
"কতিপয় আরব বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এল। তারা জিজ্ঞেস করলো, আপনারা কি আপনাদের ছোট্ট শিশুদের চুমু খান? তিনি বললেনঃ হাঁ। তারা বললো, আল্লাহর কসম! আমরা কিন্তু চুমু দেইনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ আমি কি এর মালিক বা জিম্মাদার হতে পারি, যদি মহান আল্লাহ তোমাদের অন্তর থেকে রহমত ও অনুগ্রহকে তুলে নিয়ে নেন?" [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সালেহীন - ২২৬

২১০

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
 
"কোন ব্যক্তির ওপর তার অপর ভাইয়ের যদি কোন দাবী থাকে, তা যদি তার মান-ইজ্জতের ওপর অথবা অন্য কিছুর ওপর যুলুম সম্পর্কিত হয়, তবে সে যেন আজই কপর্দকহীন নিঃস্ব হওয়ার পূর্বে তার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করে নেয়। অন্যথায় (কিয়ামতের দিন) তার যুলুমের সমপরিমাণ নেকী তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হবে। যদি তার কোন নেকী না থাকে তবে তার প্রতিপক্ষের গুনাহ থেকে (যুলুমের সমপরিমাণ) তার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হবে।"  [বুখারী]

* রিয়াদুস সালেহীন - ২১০

May 31, 2012

৭৫৮

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বর্ননা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ

"তোমরা উটের ন্যায় একইবারে (অর্থাৎ এক নিশ্বাসে) পানি পান করো না। দুই-তিনবার শ্বাস নিয়ে পান করো। আর পানি পান করার সময় 'বিসমিল্লাহ' এবং পান শেষ হলে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলো" [তিরমিযি]

রিয়াদুস সলিহীনঃ ৭৫৮

৯৮১

হযরত আবু মুসা আশ-আরি (রা) বর্ণনা করেন, রাসুল আকরাম (সা) যখন কোন ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর থেকে ক্ষতির ভয় করতেন তখন তিনি বলতেন, 

          "আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহুরিহিম ওয়া নাঊযুবিকা মিন শুরুরিহিম" অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমরা ওদের মুকাবিলায় তোমার শরনাপন্ন হচ্ছি এবং ওদের অনিষ্ট থেকে তোমারই কাছে পানাহ চাচ্ছি" [আবু দাউদ ও নাসায়ী বিশুদ্ধ সনদসহ হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন] 

৬১৪

হারিসা ইবনে ওহব (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা:) কে বলতে শুনেছি:
 

   "আমি কি তোমাদের দোজখীদের বিষয়ে জানাব না? তারা হলো: প্রত্যেক অহংকারী, সীমালংঘনকারী, অবিনয়ী ও উদ্ধত লোক" 


(বুখারী, মুসলিম)


May 25, 2012

৩৭৮

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেনঃ ওহে! যারা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন করেছিলে, আজ আমি তাদের সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেব। আর এদিনে আমার ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়াই নেই।"  [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সালেহীন - ৩৭৮

৩৮১

হযরত বারাআ ইবন আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের সম্পর্কে বলেনঃ

"ঈমানদাররাই তাদের (আনসারদের) ভালোবাসেন, আর মুনাফিকরাই তাদের ঈর্ষা করে। যে ব্যক্তি তাদের ভালোবাসে, মহান আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন, আর যে ব্যক্তি তাদের ঈর্ষা করে, বা দুশমনী রাখে আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন।"  [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সালেহীন - ৩৮১

৩৬৪

হযরত আবু মূসা আল আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

"সৎ সহকর্মী ও পাপী সহযোগীর দৃষ্টান্ত হলোঃ একজন কস্তুরীর ব্যবসায়ী, অপরজন হাপর চালনাকারী (কামার)। কস্তরীর ব্যবসায়ী হয় তোমাকে বিনামূল্যে কস্তরী দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে তা কিনে নেবে। যদি এর দু'টোর একটিও না হয়, তবে অন্তত তুমি তার কাছে এর সুঘ্রাণ পাবে। আর হাপর চালনাকারী হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দিবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।"  [বুখারী ও মুসলিম]

* রিয়াদুস সালেহীন - ৩৬৪

৩৬৫

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

"চারটি বিষয়কে সামনে রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা যেতে পারেঃ তার ধন সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও তার ধর্মপরায়নতা। এক্ষেত্রে ধর্মপরায়ন স্ত্রী লাভে বিজয়ী হও, তোমার হাত কল্যাণে ভরে যাবে।" [বুখারী ও মুসলিম]


* রিয়াদুস সালেহীন - ৩৬৫