"আমি কি তোমাদের দোজখীদের বিষয়ে জানাব না? তারা হলো: প্রত্যেক অহংকারী, সীমালংঘনকারী, অবিনয়ী ও উদ্ধত লোক"
(বুখারী, মুসলিম)
রিয়াদুস সলিহীন: ৬১৪
সহীহ ও গুরুত্বপূর্ণ হাদিস সংবলিত এবং বিশ্বের অসংখ্য ভাষায় বহুল প্রচারিত গ্রন্থ 'রিয়াদুস সালেহীন'
"নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেনঃ ওহে! যারা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন করেছিলে, আজ আমি তাদের সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেব। আর এদিনে আমার ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়াই নেই।" [বুখারী ও মুসলিম]
"ঈমানদাররাই তাদের (আনসারদের) ভালোবাসেন, আর মুনাফিকরাই তাদের ঈর্ষা করে। যে ব্যক্তি তাদের ভালোবাসে, মহান আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন, আর যে ব্যক্তি তাদের ঈর্ষা করে, বা দুশমনী রাখে আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন।" [বুখারী ও মুসলিম]
"সৎ সহকর্মী ও পাপী সহযোগীর দৃষ্টান্ত হলোঃ একজন কস্তুরীর ব্যবসায়ী, অপরজন হাপর চালনাকারী (কামার)। কস্তরীর ব্যবসায়ী হয় তোমাকে বিনামূল্যে কস্তরী দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে তা কিনে নেবে। যদি এর দু'টোর একটিও না হয়, তবে অন্তত তুমি তার কাছে এর সুঘ্রাণ পাবে। আর হাপর চালনাকারী হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দিবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।" [বুখারী ও মুসলিম]
"চারটি বিষয়কে সামনে রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা যেতে পারেঃ তার ধন সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও তার ধর্মপরায়নতা। এক্ষেত্রে ধর্মপরায়ন স্ত্রী লাভে বিজয়ী হও, তোমার হাত কল্যাণে ভরে যাবে।" [বুখারী ও মুসলিম]
"তোমাদের কেউই পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ না করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।" [বুখারী ও মুসলিম]
"যে ব্যক্তির চরিত্র এবং ব্যবহার সবচেয়ে উত্তম ঈমানের দিক থেকে সে-ই পরিপূর্ণ মুমিন। তোমাদের মধ্যে সেইসব লোক সবচেয়ে ভালো যারা তাদের স্ত্রীদের জন্য ভালো।" [তিরমিযি]
"সমগ্র পৃথিবীটাই সম্পদে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে কল্যাণকর ও উত্তম সম্পদ হল চরিত্রবান নেককার স্ত্রী।" [মুসলিম]
"আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কোন ব্যক্তির ওপর তার স্ত্রীর কি অধিকার রয়েছে?
তিনি বললেনঃ তুমি যখন আহার কর তাকেও আহার করাও, তুমি যখন পরিধান কর, তাকেও পরিধান করাও, কখনও চেহারা বা মুখমন্ডলে প্রহার করো না, কখনো অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ো না এবং ঘরের মধ্যে ছাড়া তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" [আবু দাউদ]
"কোন মুসলমান পুরুষ যেন কোন মুসলমান মহিলার প্রতি হিংষা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ না করে, কেননা তার কোন একটি দিক তার কাছে খারাপ লাগলেও অন্য একটি দিক তার পছন্দ হবে। অথবা তিনি (নবী) অনুরূপ কথা বলেছেন।" [মুসলিম]
"আমি নবী রাসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম,কোন কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।তিনি বললেনঃ ঠিক সময়ে নামায পড়া।আমি আবার বললাম, অতঃপর কোনটি?তিনি বললেনঃ পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন কাজটি।তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।"
[বুখারী ও মুসলিম]
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের জীবনে বিশ্বাসী সে যেন হয় ভালো কথা বলে, অন্যথায় চুপ থাকে।” [বুখারী ও মুসলিম]
“আল্লাহ অবশ্যই তার বান্দার প্রতি এ জন্য সন্তুষ্ট হন যে, সে কোন কিছু খেয়ে তাঁর প্রশংসা করে অথবা কোন কিছু পান করে তাঁর প্রশংসা করে।” [মুসলিম]
“আল্লাহর দ্বীন সহজ। যে কোন ব্যক্তি এ দ্বীনকে কঠিন বানাবে তার ওপর তা চেপে বসবে। কাজেই মধ্যম ও ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করো। আর সুখবর গ্রহণ করো এবং সকাল, সন্ধ্যায় ও শেষ রাতের কিছু অংশে ইবাদাত করে আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করো।” [বুখারী]
“অযথা কঠোরতা অবলম্বনকারীরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে”। [মুসলিম]
“তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতের প্রবেশ করতে পারবে না এবং পরস্পরকে না ভালোবাসা পর্যন্ত তোমাদের ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে না।
আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজের কথা বলবো না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে?
তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রচলন করো। “ [মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে সাতটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেনঃ[বুখারী ও মুসলিম]
১) রোগীকে দেখতে যাওয়া
২) জানাযায় শরীক হওয়া
৩) হাঁচি দানকারীর আলহামদুলিল্লাহ বলার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা
৪) দুর্বল ও বৃদ্ধকে সাহায্য করা
৫) মাযলুমকে সহায়তা করা
৬) সালামের প্রচলন করা
৭) শপথ পূর্ণ করা
“হে লোকেরা, সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটাও, অভুক্তদের আহার করাও, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদ্ব্যবহার কর এবং যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড়। তাহলে তোমরা শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। [তিরমিযী]
"”রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন কথা বলতেন, খুব স্পষ্ট ও পরিষ্কার করে বলতেন। শ্রোতাদের সবাই তা হৃদয়াঙ্গম করে নিতে পারতো।” [আবু দাউদ]
"আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনো অট্টহাসি দিতে দেখিনি যাতে তাঁর মুখ গহবর প্রকাশ পায়। তিনি সাধারণত মুচকি হাসি দিতেন।" [বুখারী, মুসলিম]